রাশিয়া সফরের সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে দেশটির প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
ইরনার খবরে আরও বলা হয়েছে, আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Sergey Lavrov–ও অংশ নেবেন। আলোচনায় মূল গুরুত্ব পাবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তা নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বন্ধে চলমান আলোচনাকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে রোববার পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন আব্বাস আরাগচি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি দুইবার পাকিস্তান সফর করেছেন। এই সফরগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার চেষ্টা করছে ইরান।
পাকিস্তান সফরের সময় দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও আব্বাস আরাগচি কোনো মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেননি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার এবং পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও মস্কো আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় থাকতে চায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের সঙ্গে এই বৈঠক তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ইরানও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন জোগাড় এবং কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে এই ধরনের বৈঠকের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা সীমিত থাকায় রাশিয়া ও অন্যান্য মিত্র দেশের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
সব মিলিয়ে, সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিন, আরাগচি ও লাভরভের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা