ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:২২ এএম

ইসরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিগুলো একজোট হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে গিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যেই নতুন জোট গড়ে তুলছেন দেশটির শীর্ষ বিরোধী নেতারা।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী Naftali Bennett ও Yair Lapid একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

নাফতালি বেনেট ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন, আর ইয়ার লাপিদ মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত। এই দুই নেতার সমন্বয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘টুগেদার’। নির্বাচনের আগে তাঁদের নিজ নিজ দল একীভূত করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে লড়াই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইয়ার লাপিদ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করেই তারা একত্রিত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল রাষ্ট্রকে বর্তমান পথ থেকে সরে এসে নতুন দিকনির্দেশনায় এগোতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান সরকারের নীতিমালা ও কর্মকাণ্ড দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না।

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী নেতানিয়াহু ২০২২ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠন করেন, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নেতানিয়াহুর শাসনামলে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। ওই সংঘাতে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে। পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ইসরায়েল জড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পড়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর তথাকথিত ‘নিরাপত্তা রক্ষার’ ভাবমূর্তি আগের মতো শক্তিশালী নেই। বরং ভোটারদের একটি বড় অংশ বিকল্প নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকছে।

আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইসরায়েলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে বিরোধী জোট কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি বেনেট ও লাপিদের জোট শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে, তাহলে নেতানিয়াহুর জন্য চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর