ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi পাকিস্তান সফর শেষ করে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ Telegram–এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরের সময় রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন আব্বাস আরাগচি। সেখানে ইরান ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সফর আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান সফর করলেন আব্বাস আরাগচি। এই সফরগুলোকে অনেকেই আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদানপ্রদান করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা আপাতত কমে গেছে। ইসলামাবাদে মার্কিন দূতদের নির্ধারিত সফর বাতিল হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বা বিকল্প উপায়ে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা সরাসরি সাক্ষাৎ নয়, বরং ফোনকলের মাধ্যমে হতে পারে। এতে বোঝা যায়, সরাসরি বৈঠক না হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সফরের মাধ্যমে ইরান একদিকে তার কৌশলগত মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, এই সফরের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সমাধান খোঁজারও চেষ্টা করা হতে পারে। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, ফলে তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন কূটনৈতিক দিক উন্মোচিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার পথে আব্বাস আরাগচির এই যাত্রা বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে। এর ফলাফল ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা