ইরানের নতুন প্রস্তাবে খুশি নন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধ এবং পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান সম্প্রতি যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মূলত প্রস্তাবটিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই মনে করছে হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন এই প্রস্তাবটি পছন্দ করেননি। কারণ তার মতে, এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে যথাযথভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।” বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে নিজের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রশাসনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প।
গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন কৌশল হিসেবে তিন স্তরের একটি প্রস্তাব দেয় ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসী হামলা চালানো হবে না— এমন নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপের শর্ত পূরণ হলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির পরিচালনা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। এ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তৃতীয় ধাপে ইরান প্রস্তাব দিয়েছে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি হয়, তাহলে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। তবে এই ধাপে যাওয়ার আগে যুদ্ধ বন্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ— অর্থাৎ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি— শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকায় ওয়াশিংটনের আপত্তি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা করলেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হয় এবং উভয় পক্ষই কোনো সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যায়।
প্রথম দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, উত্তেজনা কমাতে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পথ এখনও খোলা রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে আলোচনায় বসতে আগ্রহী হয়, তাহলে তাদের প্রস্তাবিত তিন স্তরের কাঠামোর ভিত্তিতেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় পরবর্তী সংলাপ কবে এবং কীভাবে হবে— তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: রয়টার্স