ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত চলাকালে ইরানের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের অভিযোগে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ বাহরাইন। সোমবার এ তথ্য জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা দ্য বাহরাইন নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইনের হাই ক্রিমিনাল কোর্ট এই ৬৯ জন ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের রায় দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের “শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন” প্রকাশ করেছিলেন।
নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন একই পরিবারের সদস্য বলেও জানা গেছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা চলমান। বিষয়টি নিয়ে জেনেভায় কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যা পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেয়।
সংঘাতের জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই হামলায় ওইসব দেশের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কয়েকজন নাগরিকের প্রাণহানিও ঘটে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে কুয়েত ও বাহরাইন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ৮ এপ্রিল থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধ চলাকালীন সময় ইরানের প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি দেখানোর অভিযোগে বাহরাইন গত মার্চ মাসে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই সময় থেকেই দেশটির হাই ক্রিমিনাল কোর্টে এ বিষয়ে বিচার কার্যক্রম চলছিল।
সোমবার ঘোষিত রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাহরাইনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইতোমধ্যে নাগরিকত্ব বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে বাহরাইন সরকার দাবি করেছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। সরকারের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বৈদেশিক শক্তির প্রতি সমর্থন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি