ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের অধিকার আছে: রাশিয়া


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি হাত মেলান। সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক করেছেন তাঁরা। রাশিয়া, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ছবি: এএফপি

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:১২ পিএম

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে নেবেনজিয়া বলেন, ইরানকে এককভাবে দায়ী করার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেন মনে হয় দেশটি নিজেই তার প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তব পরিস্থিতি অনেক জটিল এবং তা একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনো উপকূলীয় দেশ আক্রান্ত হলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে তারা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব জলসীমায় জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করার অধিকার রাখে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থানকে তিনি ‘ন্যায্য নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরেন।

রুশ রাষ্ট্রদূত পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর এলাকায় রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। নেবেনজিয়ার দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকাণ্ডকে ‘জলদস্যুতার’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, অতীতে জলদস্যুরা কালো পতাকায় কঙ্কালের প্রতীক ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালাত। এখন পশ্চিমা দেশগুলো সেই পথেই এগোচ্ছে, তবে তারা সরাসরি নয়—বরং নিষেধাজ্ঞা ও একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার আড়ালে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

নেবেনজিয়া আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করছে। তারা নিজেদের পদক্ষেপকে বৈধতা দিতে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উত্তেজনা না বাড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোনো—এমন মত দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। অন্যথায়, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর