রাশিয়া ও ইরান ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে’ একে অপরের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ইরানের উপ–প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজা তালাই-নিক–এর সঙ্গে এক বৈঠকে বেলোসভ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের পারস্পরিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা চাপ ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করে যাবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দুই দেশ আরও এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলায়ও দুই দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে অবস্থান নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা কেবল কূটনৈতিক বার্তাই নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইরান ঘনিষ্ঠতা নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ চলমান সংকট ও সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেয়। তারা বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও আলোচনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের এই ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হতে পারে। এতে করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন জোট ও সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই