ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করতে পারে না: যুক্তরাজ্য


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৪৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ ইরানের নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে লন্ডন। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য সরকার ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান বজায় রেখে একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায়, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

স্টিফেন ডাউটি বলেন, ইরানকে অবশ্যই আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যাবে না। তিনি বলেন, “ইরান প্রণালিকে জিম্মি করে রাখতে পারে না। তারা জাহাজে হামলা চালাতে পারে না, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে না এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথেও এগোতে পারে না। তবে আমরা অবশ্যই কূটনৈতিক সমাধান চাই এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় সম্পূর্ণভাবে সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এই নৌপথ কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক করিডর।

যুক্তরাজ্য জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে ফ্রান্স, বাহরাইনসহ অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বা শুল্ক বাধা না রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্টিফেন ডাউটি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি, আমাদের নিজস্ব অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের জন্য এই প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চলমান উত্তেজনা ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য বর্তমানে প্রায় ৯০টি দেশের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সংকট সমাধানে কাজ করছে। এই জোটের মাধ্যমে কূটনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা দ্রুত না কমলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।



এ সম্পর্কিত আরো খবর