ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

চীনে ৩ হাজার ডাইনোসরের ডিম সংরক্ষণে ন্যানো প্রযুক্তি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৩৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের হুবেই প্রদেশের সিয়ান এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ডাইনোসরের ডিমের জীবাশ্ম আবিষ্কারের পর সেগুলো সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ বছর পুরোনো এই ডিমগুলো একটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার বর্গমিটার।

ডাইনোসরের জীবাশ্ম ও ডিম নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞানীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এসব জীবাশ্ম থেকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রাণীজগৎ, তাদের জীবনধারা, পরিবেশ এবং বিবর্তন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়। নতুন এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন, কারণ একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক ডিমের জীবাশ্ম পাওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা।

গবেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব জীবাশ্ম প্রাকৃতিক পরিবেশ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং ক্ষয়প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই এগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করার জন্য বিশেষ ধরনের ন্যানো-স্কেল প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাশ্মের উপর অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি আস্তরণ তৈরি করা হয়, যা বাইরে থেকে আর্দ্রতা, ধুলাবালি এবং রাসায়নিক ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ন্যানো-কোটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ডিমগুলোর মূল গঠন অক্ষুণ্ণ থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো গবেষণার উপযোগী অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়। এটি জীবাশ্ম সংরক্ষণে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষক দল আরও বলছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে ডাইনোসরের ডিমের গঠন, তাদের বিকাশ প্রক্রিয়া এবং প্রজনন ব্যবস্থার ওপর আরও গভীর ও বিস্তারিত গবেষণা করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রাচীন পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে নতুন তথ্যও জানা যেতে পারে।

এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের জন্য শুধু সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জই নয়, বরং প্রাগৈতিহাসিক জীবনের রহস্য উন্মোচনের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ বছর আগের এই জীবাশ্মগুলো ডাইনোসর যুগের বাস্তুসংস্থান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই প্রকল্পে কাজ করছেন। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম সংরক্ষণের এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি পৃথিবীর অন্যান্য জীবাশ্ম সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি শুধু ডাইনোসরের ইতিহাস নয়, বরং পৃথিবীর প্রাচীন জীববৈচিত্র্য বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর