আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আজ মার্কিন কংগ্রেসে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিস কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে অংশ নেবেন পিট হেগসেথ। এই শুনানিতে তাকে আইনপ্রণেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হবে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কৌশল, সামরিক পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।
এই শুনানির মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে থাকছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটের চেয়েও ইরান যুদ্ধ ইস্যুই শুনানির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে এই যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
এর আগে ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের জন্য আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। তারা অভিযোগ করেন, যুদ্ধের কৌশল ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয়নি। এর ফলে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে আজকের শুনানি বেশ উত্তপ্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কংগ্রেস সদস্যরা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে যুদ্ধের উদ্দেশ্য, সময়কাল, ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইতে পারেন।
শুনানিতে আরও উপস্থিত থাকবেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন। তিনিও যুদ্ধ পরিস্থিতি, সামরিক প্রস্তুতি এবং চলমান অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুনানি শুধু প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের জন্যই নয়, বরং ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে সরকারের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও অনেকাংশে নির্ভর করবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বৈদেশিক নীতিতে এই শুনানির প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও ব্যয় নিয়ে জনমত এবং রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ
আকাশজমিন / আরআর