কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর (৫৭) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আলমগীর হোসেন একটি স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তাকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে শিশু-কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা জানান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে ওই কিশোরকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলেই তাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে আলমগীরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকে অন্যায়ভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, ঘটনার দিন রাতে আলমগীর নিজের ঘরে পড়াশোনা করে ঘুমিয়ে ছিল। পরে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে আলমগীরকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, তখন তাকে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু পরে থানায় নেওয়ার পর তাকে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দেখানো হয়।
পরিবার আরও দাবি করেছে, ঘটনার সময় আলমগীর দরবারে উপস্থিত ছিল না। হামলার দিন দুপুরে সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরে। পরে বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মায়ের কাছে বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, সে কোনোভাবেই হামলায় জড়িত ছিল না।
এর আগে ঘটনার প্রায় ১৯ দিন পর গত রোববার রাতে পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিপ্লব (২৬) এবং আলিফ ইসলাম (২৩)। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১০ এপ্রিল সকালে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম কোরআন অবমাননা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর ১১ এপ্রিল শতাধিক মানুষ দরবারের কাছে জড়ো হয় এবং পরবর্তীতে দুপুরের পর দরবারে হামলা চালায়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই পীর শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ভিডিও বিশ্লেষণ করে আলমগীর হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা জরুরি, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয়। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আকাশজমিন / আরআর