ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৪৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এর সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে জ্বালানি গ্যাস ও পেট্রোল থেকে উৎপাদিত গ্যাসোলিনের দাম বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৮ লিটার) গ্যাস-গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে গ্যাসের দাম ৪ ডলারের বেশি হয়েছিল। তখন প্রতি গ্যালন গ্যাস বিক্রি হয়েছিল ৪ দশমিক ১৫ ডলারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল হ্রাস পাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে।

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাস-গ্যাসোলিনের দাম ছিল ৩ দশমিক ১৫ ডলার। সেই তুলনায় বর্তমান মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম সমান নয়। যেসব অঙ্গরাজ্যে তেল বা গ্যাসের খনি রয়েছে, যেমন টেক্সাস, সেখানে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম তুলনামূলক কম— প্রায় ৩ দশমিক ৭৮ ডলার। অন্যদিকে যেসব অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি সম্পদের উৎস নেই, যেমন ক্যালিফোর্নিয়া, সেখানে এই দাম অনেক বেশি, প্রায় ৫ দশমিক ৯৬ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, ফলে এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলেই তার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু বর্তমানে ইরানি অবরোধের কারণে প্রতিদিন মাত্র ৮ থেকে ১০টি জাহাজ চলাচল করছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে এবং জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, গাল্ফ নিউজ

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর