আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় আজ বুধবার ৭টি জেলায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দফায় ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য, যার মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, শশী পাঁজা, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা।
এই দফার সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর আসন, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মমতা ব্যানার্জি। একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেও লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী, যা নির্বাচনকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে এই দুই কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে দুপুরের পর। এর আগে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ওই দফায় ভোট পড়ার হার ছিল ৯৩ শতাংশেরও বেশি বলে জানানো হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ কোটি ২২ লাখের বেশি। এর মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ২৪৩ জন। নির্বাচন কমিশন এসব প্রবীণ ভোটারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং অনেককে বাড়ি থেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
প্রচারণা শেষ হয়েছে সোমবার সন্ধ্যায়। এরপর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো এখন ফলাফল বিশ্লেষণে ব্যস্ত। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি উভয়ই নিজেদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করছে। প্রথম দফার পর উভয় দলই পৃথকভাবে ১২৫টির বেশি আসন পাওয়ার দাবি করেছে।
মমতা ব্যানার্জি নির্বাচনী প্রচারে দাবি করেছেন, প্রথম দফায় তারা ইতিমধ্যেই ১০০টির বেশি আসনে এগিয়ে আছেন এবং দ্বিতীয় দফায় আরও অন্তত ১০০টি আসন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা মনে করছেন, তারা ১৬০ থেকে ১৭০ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের হার ও ভোটার উপস্থিতিই ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রথম দফায় যেমন উচ্চ ভোটগ্রহণ হয়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও একই প্রবণতা বজায় থাকলে ফলাফল আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।
এদিকে ভোটার তালিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। জানা গেছে, রাজ্যে প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। পরে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিছু নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ দ্বিতীয় দফার জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ৪৬৮ জন ভোটারের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, যারা আজ ভোট দিতে পারবেন।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার এই ভোট রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
আকাশজমিন / আরআর