আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চলমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকট সমাধানে ইরানের প্রতি অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। একই সঙ্গে এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার মালবাহী জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক বর্তমানে আটকে পড়েছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, “এই সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের অবশ্যই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং একটি কার্যকর প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।” তার মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ জরুরি।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তার দেশও এই প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় সক্রিয়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, জার্মানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ হিসেবে পরিচিত। এখান দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই এলাকায় যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হবে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ হলো বিশ্বের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা, যার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এই পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স, যাদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ আঞ্চলিক ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত হয়।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তাই দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক ঐক্যমত গড়ে তুলে সমাধানের পথে এগোনো প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে কূটনৈতিক সমাধানই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর