ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ইরানের প্রস্তাবে নতুন জট, ট্রাম্পের আপত্তি পরমাণু ইস্যুতে


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:০২ এএম

ইরানের নতুন প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত কমিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে তিন ধাপের একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। তবে এই প্রস্তাবের তৃতীয় ধাপ নিয়েই মূল আপত্তি তুলেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। কয়েক দিন আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই তিন স্তরের প্রস্তাব পৌঁছে দেয় ইরান। এতে প্রথম ধাপে ইরান ও লেবাননে চলমান সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথভাবে আলোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় ধাপে বলা হয়েছে, প্রথম দুই ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে এরপর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করা যাবে। এই ধাপটিকেই অগ্রহণযোগ্য মনে করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তার মতে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হওয়া উচিত সবার আগে। এরপরই অন্য বিষয়, যেমন অবরোধ প্রত্যাহার বা সামরিক উত্তেজনা কমানোর প্রশ্ন আসতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না— এটি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি থেকে তার প্রহরা সরিয়ে নিক। কিন্তু এই দাবি তিনি মানতে নারাজ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগে পরমাণু ইস্যুতে নিশ্চিত সমঝোতা না হলে অন্য কোনো বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে কোনো ইরানি জাহাজ সহজে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করতে না পারে। যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এই অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অবরোধ কার্যত বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তার ভাষায়, এতে ইরান চরম চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে দমবন্ধ পরিস্থিতিতে পড়ছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পরমাণু বোমা অর্জনের সুযোগ দেবে না। তার মতে, বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে হলে ইরানকে প্রথমে এই বিষয়ে পরিষ্কার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অন্যথায় কোনো ইস্যুতেই অগ্রগতি সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর