ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

জব্দ ইরানি জাহাজের ৬ ক্রু মুক্ত, ২২ জন এখনও আটক


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:০৫ এএম

হরমুজ প্রণালিতে জব্দ করা একটি ইরানি কনটেইনারবাহী জাহাজের ছয়জন ক্রুকে মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁরা ইতোমধ্যে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তবে একই জাহাজের আরও ২২ জন ইরানি নাবিক এখনও আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম।

গত ২০ এপ্রিল মার্কিন বাহিনী ‘তউসকা’ নামের কনটেইনারবাহী জাহাজটি জব্দ করে। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক থাকা নাবিকদের দ্রুত মুক্ত করতে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এই ঘটনাটি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়, ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা জাহাজটিকে আগে থেকেই ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাহাজটি সেই নির্দেশ অমান্য করায় বাধ্য হয়ে সেটি জব্দ করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ইরানের বন্দর ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলছে, নিরীহ নাবিকদের আটক রাখা অযৌক্তিক এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়া উচিত। তেহরান মনে করছে, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে বারবার এমন ঘটনা ঘটলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। অনেক দেশই চায়, এই ধরনের উত্তেজনা দ্রুত কমে আসুক এবং নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হোক। কারণ হরমুজ প্রণালি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডর।

সব মিলিয়ে, ছয়জন ক্রুর মুক্তি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও বাকি নাবিকদের ভাগ্য অনিশ্চিত থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। তাদের মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর