ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এইচএসসিতে পাসের বড় বিপর্যয়: ফেল করেছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮%, কমেছে পাস ও জিপিএ-৫ এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, পেছনে বরিশাল এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য সুখবর উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী এইচএসসি ফলে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ এ ছেলেরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বিএনপি দেখে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এইচএসসিতে ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস, কমেছে সাফল্যের হার মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,২৫০ জন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, এইচএসসিতে এগিয়ে ছাত্রীরা

হাওরে বন্যার থাবা, তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:১১ এএম

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার বিস্তীর্ণ হাওরে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা, যারা সারা বছরের ভরসা হিসেবে এই একমাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল।

গত ২৪ ঘণ্টায় টানা বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের জিনারিয়া হাওরের রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। বোলাই নদীর পাশের একটি খালের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে। এতে কয়েকশ হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা জানান, মাসের পর মাস বাড়িঘর ছেড়ে হাওরে থেকে চাষাবাদ করেছেন তারা। কিন্তু হঠাৎ এ দুর্যোগে সব হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এক কৃষক বলেন, “ধারদেনা করে চাষ করেছি। ধান পাকার পরও আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাটতে পারিনি। এখন সব পানির নিচে।” আরেকজন জানান, “এই ধানই ছিল আমাদের সারা বছরের ভরসা, এখন আমরা একেবারে নিঃস্ব।”

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, নাইন্দার হাওর, কাংলার হাওর, দেখার হাওরসহ প্রায় সব হাওরেই একই চিত্র। কোথাও ধানের শীষ পুরোপুরি পানির নিচে, কোথাও আংশিক ভাসছে। কৃষকেরা কোমরসমান পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটছেন, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও কৃষি বিভাগের হিসাবে কিছুটা কম দেখানো হয়েছে, কৃষকদের দাবি—ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। অনেক এলাকায় এখনো অর্ধেকের বেশি ফসল কাটা সম্ভব হয়নি।

মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, কলমাকান্দা ও আটপাড়া উপজেলায় এবার ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। কৃষি বিভাগ বলছে, এর প্রায় ৬৮ শতাংশ ফসল ঘরে তোলা হয়েছে, তবে কৃষকদের মতে তা ৫০ শতাংশের বেশি নয়। বৃষ্টি না থামায় এবং পানি দ্রুত না নামায় বাকি ফসল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরেও একই অবস্থা। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন বলছে, ৮২ শতাংশ ফসল ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, কিন্তু স্থানীয়দের দাবি—অনেক জমির ধান এখনও পানির নিচে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

হবিগঞ্জেও নদ-নদীর পানি বেড়ে ৩৯টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাকা বোরো ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খোয়াই, কুশিয়ারা, কালনী, সুতাং ও সোনাই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, যা বন্যার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগাম বন্যা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরাঞ্চলে কৃষি ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করলে ভবিষ্যতে এই ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, এবারের বৃষ্টি ও ঢলে হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের অনেকেই ঋণ করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর