নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় গুরুতর আহত মৎস্য খামারি শহিদুল্লাহ মিয়া (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার পশ্চিম রামপুরা এলাকার বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহিদুল্লাহ মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর নামাপাড়া এলাকায় নিজস্ব পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। তার খামারের পাশে স্থানীয় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও বিএনপির স্থানীয় কর্মী নিয়মিতভাবে মাদক বিক্রি ও সেবনের আসর বসাতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খামারের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় শহিদুল্লাহ মিয়া বারবার তাদের সেখানে মাদক সেবন ও বিক্রি করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এরই জের ধরে গত ১১ এপ্রিল দুপুরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে খামারে প্রবেশ করে মাদক বিক্রি ও সেবনের সময় শহিদুল্লাহ মিয়া বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা লোহার হাতুড়ি, ছুরি, স্টিলের পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। হামলায় শহিদুল্লাহ মিয়া গুরুতর আহত হন।
হামলাকারীরা তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহিদুল্লাহ মিয়াকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার পশ্চিম রামপুরা এলাকার বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল শহিদুল্লাহ মিয়ার মেয়ের জামাই মোজাম্মেল হক ভুঁইয়া বাদী হয়ে ৪ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত ৮–১০ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত করা হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে শহিদুল্লাহ মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মাদক ব্যবসার বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এমন সহিংস ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা এলাকায় স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূল অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।