ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এইচএসসিতে পাসের বড় বিপর্যয়: ফেল করেছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮%, কমেছে পাস ও জিপিএ-৫ এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, পেছনে বরিশাল এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য সুখবর উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী এইচএসসি ফলে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ এ ছেলেরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বিএনপি দেখে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এইচএসসিতে ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস, কমেছে সাফল্যের হার মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,২৫০ জন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, এইচএসসিতে এগিয়ে ছাত্রীরা

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:২২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছে। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে এবং মানুষের নৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে, যা অনুসারীরা পালন করে থাকেন।

তিনি বৌদ্ধ ধর্মের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছেন। এই পঞ্চশীল নীতির মধ্যে রয়েছে প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকা। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা এবং সর্বজীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম শিক্ষা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব নির্দেশনা শুধু কোনো একটি ধর্মের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তাহলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার বিনা বাধায় স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনই বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কোনো ইচ্ছা নেই। অতীতেও এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার”—এটাই সরকারের নীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই মিলে এই দেশ স্বাধীন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম পরিচয় কখনো বিবেচনায় আসেনি। তাই এই দেশ সবার, এবং প্রত্যেক নাগরিকই সমানভাবে এর অংশীদার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা, যেখানে কেউ নিজেকে আলাদা বা অবহেলিত মনে করবে না। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই এক পরিচয়ে পরিচিত হবে—আমরা সবাই বাংলাদেশি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর