ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সময় যুদ্ধে প্রস্তুত তেহরান


  • আপলোড সময় : শনিবার ০২ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সময় যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘দুঃসাহসিকতা বা বোকামির’ জবাব দিতে তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

ইরানের সামরিক সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তি বা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগের আলোচনা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে তারা যথেষ্ট নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যখনই কোনো দাবি কিছুটা শিথিল করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ততবারই আরও বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। ফলে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি আরও গভীর হয়েছে এবং আলোচনার পরিবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

কিছু অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান করা শান্তি প্রস্তাবে ইরান তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাদ দিয়েছিল। এর মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও ছিল। তবুও সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বর্তমানে ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অবস্থা এবং ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার’ বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। এই দুই ইস্যুকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। তাদের মতে, আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানকে ‘আত্মসমর্পণ’ করতে বাধ্য করতে চাইছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বর্তমানে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী মনে করছে, যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সেই অনুযায়ী তারা সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর