ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ট্রাক চালক মোহাম্মদ আলী (৩৫) এবং ট্রাকে বহন করা আনারসের মালিক মনির খলিফা (২৮)। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
নিহত মোহাম্মদ আলী বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সেকান্দর আলী মাঝির ছেলে। অপরদিকে মনির খলিফা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গোপামারা এলাকার আব্দুল খালেক খলিফার ছেলে। তাদের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে সোনারগাঁ থানাধীন টিপরদী এলাকায় চৈতি গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে ঢাকামুখী লেনে। একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ন-২০-১০৯৯) সামনে থাকা অজ্ঞাত একটি গাড়ির পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মিনি ট্রাকটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর অজ্ঞাত গাড়িটির চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস-এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের ভেতর থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহগুলো পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত যানটি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ফলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কাঁচপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, অজ্ঞাত গাড়িটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতি, অসতর্ক ড্রাইভিং এবং রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের চাপ—এসব কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তারা সড়কে নজরদারি বাড়ানো এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় এভাবে প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।