ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এইচএসসিতে পাসের বড় বিপর্যয়: ফেল করেছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮%, কমেছে পাস ও জিপিএ-৫ এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, পেছনে বরিশাল এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য সুখবর উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী এইচএসসি ফলে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ এ ছেলেরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বিএনপি দেখে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এইচএসসিতে ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস, কমেছে সাফল্যের হার মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,২৫০ জন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, এইচএসসিতে এগিয়ে ছাত্রীরা

সিএনএন ‘নির্বোধ’, নিউইয়র্ক টাইমস ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’: ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : শনিবার ০২ মে, ২০২৬ সময় : ৪:৫৫ পিএম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী দুই মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন-এর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সিএনএনকে ‘নির্বোধ’ এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় সুবিধা বৃদ্ধির একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প তার যুদ্ধসংক্রান্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে সামরিকভাবে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রতিদিন পড়ি, তারা (ইরান) সামরিকভাবে কত ভালো করছে। আসলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, তারা শেষ। অথচ আমি নিউইয়র্ক টাইমসে এসব পড়ি আর নির্বোধ সিএনএনে দেখি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সিএনএন দেখি কারণ, শত্রুর গতিবিধি বুঝতে কিছুটা দেখতে হয়।’ তার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এই দুই সংবাদমাধ্যম এমনভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যাতে মনে হয় ইরান এ যুদ্ধে এগিয়ে রয়েছে বা জিতছে। তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইমস যা করছে তা আমার মতে রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আপনারা কলামিস্টদের লেখা পড়লে দেখবেন, এসব ওপরমহল থেকেই শুরু হয়। এটা খুবই ভয়ংকর বিষয়।’

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে চিন্তা করি না, কারণ সবাই সত্য জানে। আমরা দেশটিকে (ইরান) ধ্বংস করে দিচ্ছি।’ তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ড এক নিবন্ধে উল্লেখ করে যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ‘শক্তি’ হারাচ্ছে। ওই নিবন্ধে বলা হয়, ছোটখাটো কিছু সাফল্য বড় কোনো জয়ে পরিণত হচ্ছে না, বরং এটি ওয়াশিংটনের অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে এমন প্রকাশ্য বিরোধ দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন সময়ে তথ্য উপস্থাপন ও জনমত গঠনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একপক্ষ মনে করছে, সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ, অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনা আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর