রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় খেলাধুলা করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে পড়ে ফারিহা (১২) ও টুম্পা (৮) নামের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (০২ মে) দুপুরে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের সোনাবো এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারিহা সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রাফিন নগর এলাকার দ্বীন ইসলামের মেয়ে এবং টুম্পা একই এলাকার মাসুদ মিয়ার মেয়ে ফারিয়া। তারা রূপগঞ্জের সোনাবো এলাকায় আলাউদ্দিন ও মমিন মিয়ার বাড়িতে বসবাস করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে সোনাবো এলাকার মতিন মিয়াদের পুকুরপাড়ে খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে তারা অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়।
এ সময় আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং কিছু সময়ের মধ্যেই দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তাদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, শিশুদের খেলাধুলার সময় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আশপাশে না থাকায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছে। তারা আরও বলেন, গ্রামের অনেক পুকুরে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত দুই শিশুর পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, পুকুর বা জলাশয়ের পাশে শিশুদের খেলাধুলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিশুদের প্রতি সবসময় নজরদারি রাখা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির আশপাশে থাকা পুকুরগুলোতে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা রোধে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। পুকুরের চারপাশে বেড়া দেওয়া, শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সামান্য অসাবধানতাই কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।