সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 65
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচারের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. ময়নুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।
শুক্রবার (১ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বড় পওতা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বারুহাস ইউনিয়নের সভাপতি এবং বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বারুহাস ইউনিয়নের বিনোদপুর বাজারে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিতে যান সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান তালুকদার। এ সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল আজিজের নির্দেশে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার গাড়িবহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সে সময় পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে আবদুল মান্নান তালুকদারের জীবন রক্ষা করেন বলে জানা যায়। হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
এই ঘটনার দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হত্যাচেষ্টা ও নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন বারুহাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান। এতে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবদুল আজিজসহ ৯৯ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. ময়নুল হক একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এই মামলার আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমবে। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।