ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ভোট গণনার আগে মমতার কড়া নির্দেশ


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৩৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করে আবারও সরকার গঠন করবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

শনিবার (২ মে) বিকেলে কালীঘাট থেকে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভিন্ন কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টরা অংশ নেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফল ঘোষণার আগে এটিই ছিল চূড়ান্ত প্রস্তুতির বৈঠক। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলেন, তাদের সংগঠন মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ফলাফল সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করবে।

তবে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি তিনি সতর্কতাও জারি করেন। ভোট গণনার দিন কোনো ধরনের ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান। তার নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি এজেন্টকে ভোর থেকেই গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে। দলের অনুমতি ছাড়া কাউকে কেন্দ্র ত্যাগ না করার নির্দেশও দেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যেসব কর্মী বা সমর্থক আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা হবে। ফল ঘোষণার পর তাদের যথাযথ সম্মান ও পুরস্কার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গণনার সময় বিশেষ কিছু বিষয়ে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, কোথাও যদি ২০০ থেকে ৩০০ ভোটের কম ব্যবধানে প্রতিপক্ষ এগিয়ে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। এই নির্দেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ অল্প ব্যবধানের আসনগুলোই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও কড়া অবস্থান নেন মমতা। তিনি বলেন, এসব সমীক্ষার ওপর নির্ভর করার কোনো প্রয়োজন নেই। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো জনমত প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হয় এবং বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে এর মিল নাও থাকতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মীদের এসব উপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিও গণনার দিন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফলাফলের সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার ত্যাগ করা যাবে না। কোথাও কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে দলের উচ্চপর্যায়ে জানাতে হবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পোস্টাল ব্যালট গণনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে এই ভোটই ফলাফলে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ইভিএম খোলার সময় তারিখ ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেন তিনি। কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে বিজেপিও সরকার গঠনের দাবি করছে। ফলে ভোট গণনার দিন প্রতিটি ধাপকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের ফল ঘোষণার আগে তৃণমূল নেতৃত্বের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা সংগঠনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং কোনো অবস্থাতেই গণনার প্রক্রিয়ায় শৈথিল্য প্রদর্শন করতে রাজি নয়।



এ সম্পর্কিত আরো খবর