আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটি যদি আবার কোনো ধরনের ‘অসদাচরণ’ করে, তাহলে পুনরায় সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গতকাল শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির রূপরেখা সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং এখন তিনি এর চূড়ান্ত লিখিত খসড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো আশাবাদ ব্যক্ত করেননি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, পুনরায় হামলার সম্ভাবনা আছে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিলেও ট্রাম্প বলেন, ইরান অতীতে যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কিছু বলতে না চাইলেও পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে যেকোনো ধরনের সমঝোতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের শর্তই প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাকে আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে। অর্থাৎ, এই সংবেদনশীল বিষয়টি ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক জটিল এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আরও কঠোর শর্তে চুক্তি করতে চাইছে। তবে এতে আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের প্রস্তাব ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ঘিরে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। কূটনৈতিক সমাধান হবে নাকি আবারও সংঘাত বাড়বে—তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স