ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ ব্যবহার শুরু হিজবুল্লাহর


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫৬ পিএম

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলায় গোষ্ঠীটি এখন ছোট আকারের ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ড্রোন ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় এগুলো দ্রুত উৎপাদন ও মোতায়েন করা যায়। একই সঙ্গে প্রচলিত ড্রোনের তুলনায় এগুলো শনাক্ত করা অনেক বেশি কঠিন, যা শত্রুপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ড্রোনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোকে সহজে সিগন্যাল জ্যামিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা যায় না। সাধারণ ড্রোনগুলো রেডিও সিগন্যাল বা জিপিএসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্যামিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। কিন্তু ‘ফাইবার অপটিক’ ড্রোন তারের মাধ্যমে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে বাইরের কোনো ইলেকট্রনিক বাধা এদের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবার অপটিক তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার কারণে এই ড্রোনগুলো অপারেটরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখে। এতে করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও আঘাত হানার ক্ষেত্রে অনেক বেশি নির্ভুলতা পাওয়া যায়। এমনকি জটিল পরিবেশেও অপারেটর তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হন।

লেবাননের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এই ড্রোন ব্যবহার ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্থলযুদ্ধে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে ইসরায়েল।

এছাড়া এই প্রযুক্তির বিস্তার ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরনকেও বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কম খরচে কার্যকর এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হওয়ায় এ ধরনের ড্রোন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ শুধু একটি নতুন অস্ত্রই নয়, বরং এটি আধুনিক যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর