কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকায় মাদরাসায় যাওয়ার পথে শিক্ষক বাবার মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির নাম খালেদ (৭)। সে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপন ভুঁইয়ার ছোট ছেলে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (৩ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার আজগর আলী স্কুলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক এবং ভয়াবহ।
জানা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপন ভূঁইয়া দেবিদ্বার বাবুস সালাম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতে যাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তার ছোট ছেলে খালেদকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে রওনা হন। বাবা-ছেলে নতুন পথচলার আশায় রওনা হলেও পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
তাদের মোটরসাইকেলটি দেবিদ্বার আজগর আলী স্কুলের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করেই খালেদ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যায়। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে চালক বা আশপাশের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু করতে পারেননি।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এলেও শিশুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সংশ্লিষ্ট কাউকে তখন সেখানে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে শিশু বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সড়কে চলাচলের সময় সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এমন দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, ওই সড়কটি ব্যস্ত এবং দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এখানে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপদে বহনের বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
খালেদের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন আকস্মিক পরিসমাপ্তি সবাইকে নাড়া দিয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর