ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

১৪ মাস পর কবর থেকে কৃষকদল নেতার মরদেহ উত্তোলন


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬ সময় : ৪:৫৮ পিএম

লক্ষ্মীপুরে দাফনের প্রায় ১৪ মাস পর শাহাদাত হোসেন পরাশ নামে এক কৃষকদল নেতার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রোববার (৩ মে ২০২৬) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমনের উপস্থিতিতে পৌর শহরের তেরবেকি এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আরমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নিহত শাহাদাত হোসেন পরাশ জেলা কৃষকদলের সাবেক সহসভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ শেখ সুমন জানান, ২০২৫ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ মোস্তানগর এলাকায় পরাশ মারা যান। তখন ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন তার মরদেহ লক্ষ্মীপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হলে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করা হয়।

পরবর্তীতে একই বছরের ৯ এপ্রিল তার স্ত্রী শেফালি বেগম শেপু চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার মরদেহটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয় এবং লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলন করা হলেও আধুনিক ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

বাদী শেফালি বেগম শেপু অভিযোগ করেন, তার স্বামী শাহাদাত হোসেন পরাশ ওমানে প্রবাসী ছিলেন। ঘটনার প্রায় আট মাস আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরাশের সঙ্গে অভিযুক্ত মোহনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, পরাশ দেশে ফিরে একটি মাটি খননযন্ত্র কেনার পরিকল্পনা করেন। সেই উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে মোহনকে সঙ্গে করে মোটরসাইকেলে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরবর্তীতে তাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও তিনি তা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মানতে রাজি নন।

শেফালি বেগম শেপুর অভিযোগ, পরাশের কাছে থাকা ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মোহনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর