ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

শ্রীবরদী সীমান্তে মানব পাচারকারী ফারুক আটক


শ্রীবরদী সীমান্তে মানব পাচারকারী ফারুক আটক

  • আপলোড সময় : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬ সময় : ৫:০১ পিএম

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা ফারুক (৪০) অবশেষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অভিযানে আটক হয়েছেন। রোববার (৩ মে ২০২৬) সকালে সীমান্তবর্তী বাবেলাকোনা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপি’র একটি অভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কর্ণঝোড়া বিওপি ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান এবং নায়েক নাজমুল। তাদের তৎপরতায় বাবেলাকোনা এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

ধৃত ফারুক সিংগাবরুনা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের সলি মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারকারী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মানব পাচার মামলার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

স্থানীয়রা জানান, ফারুক প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করলেও এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হননি। ফলে সীমান্ত এলাকায় তার প্রভাব বিস্তার অব্যাহত ছিল। তবে তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিজিবি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

৩৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্ণঝোড়া সীমান্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফারুক সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোববার দুপুরে বিজিবি ফারুককে শ্রীবরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. মোরশেদ আলম জানান, ফারুকের বিরুদ্ধে মানব পাচারের দুটি মামলা রয়েছে। তাকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার একটি বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে এসব অপরাধ দমনে কিছুটা অগ্রগতি হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

ফারুকের গ্রেপ্তারকে এই অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, এর ফলে মানব পাচারকারী চক্রের কার্যক্রম অনেকাংশে কমে আসবে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর