চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনগর পাড়ায় একটি লিচু বাগান ঘিরে কারেন্ট জাল টানানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, বাগান সুরক্ষার নামে টানানো ওই জালে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আটকা পড়ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের পর প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগানের চারপাশে এমনভাবে জাল টানানো হয়েছিল যে আশপাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখিগুলো সহজেই এতে আটকা পড়ছিল। অনেক পাখি জালে আটকে আহত হচ্ছিল, আবার কিছু পাখি দীর্ঘ সময় আটকা থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছিল। এতে শুধু পাখির জীবন ঝুঁকিতে পড়েনি, বরং এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জালটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যাতে তা প্রায় অদৃশ্য অবস্থায় থাকে। ফলে পাখিরা তা বুঝতে না পেরে সরাসরি জালে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল। শিশু ও পরিবেশপ্রেমী মানুষজন এই দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের কারেন্ট জাল ব্যবহার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পাখি প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। এভাবে নির্বিচারে পাখি ধরা বা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধও হতে পারে।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বাগান মালিককে জাল অপসারণের নির্দেশ দেন এবং পাখি ধরার মতো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেন। প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর বাগান থেকে কারেন্ট জাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে করে পাখিরা আবার স্বাভাবিকভাবে উড়াচল করতে পারছে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরে আসছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবেশ সচেতনরা মনে করছেন, কৃষি জমি বা বাগান রক্ষার জন্য বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এতে যেমন ফসল রক্ষা করা যাবে, তেমনি বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
সব মিলিয়ে, জীবননগরের এই ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ পরিবেশ সংরক্ষণে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।