দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপের কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইনস ‘স্পিরিট’। ইরান-সম্পর্কিত যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় কোম্পানিটি চূড়ান্তভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গত শনিবার (৩ মে ২০২৬) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্রমাগত লোকসান, ঋণের চাপ এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা আর বিমান পরিচালনা চালিয়ে যেতে পারছে না। এ সিদ্ধান্তের ফলে স্পিরিটের সব ফ্লাইট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের বিকল্প এয়ারলাইনসে টিকিট পুনঃবুকিং করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্পিরিট এয়ারলাইনস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প খরচে বিমান ভ্রমণের জন্য পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে।
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই দফা দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে কোম্পানিটি ব্যবসা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ঋণ পরিশোধ ও পরিচালন কাঠামো পুনর্গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
ফ্লোরিডাভিত্তিক এই এয়ারলাইনসকে টিকিয়ে রাখতে মার্কিন প্রশাসন থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ঋণের শর্ত এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। ফলে কোম্পানিটি কার্যত বিলুপ্তির পথে চলে যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি বিমান পরিবহন খাতে পড়ছে। বিশেষ করে বাজেট এয়ারলাইনসগুলো উচ্চ জ্বালানি খরচ সামলাতে না পেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্পিরিট এয়ারলাইনস ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে এবং দ্রুতই কম খরচে বিমান ভ্রমণের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সাশ্রয়ী টিকিটের কারণে এটি বহু যাত্রীর পছন্দের তালিকায় ছিল।
তবে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ, ঋণের বোঝা এবং জ্বালানি খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে যাত্রী ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে।