যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা নূর নিউজের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা প্রস্তাবের পাল্টা হিসেবে তেহরান এই ১৪ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি নৌ-অবরোধের অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানসহ অঞ্চলের সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে টিকে আছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার পথ খোলা থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমেছে।
এদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ওমান। ফলে নতুন করে আবারও ওমানের মধ্যস্থতায় সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব কতটা গ্রহণ করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
চলমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে অঞ্চলটি নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে।