ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

পশ্চিমবঙ্গে ফুটলো পদ্মফুল, দিদির বিদায়


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৪৫ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রবণতায় বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রাথমিক গণনার ফল অনুযায়ী, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের দিকে এগোচ্ছে রাজনৈতিক মানচিত্র। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অন্যদিকে বিজেপি স্পষ্টভাবে এগিয়ে গিয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে।

বর্তমান ভোট গণনার প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি ২৯৪ আসনের মধ্যে প্রায় ২০০ আসনের কাছাকাছি এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে পড়ে দুই অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিছু জরিপে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হলেও, কিছু জরিপে তৃণমূলের পুনরাগমনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল। তবে প্রাথমিক গণনার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বিজেপির পক্ষে থাকায় সেই সব পূর্বাভাসের মধ্যে একাংশই সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গে বিজেপি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এবং সেখানে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে মেদিনীপুর ও বর্ধমানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় বিজেপি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে প্রবেশ করে বড় সাফল্য পেয়েছে বলে ভোট গণনার তথ্য থেকে জানা গেছে।

শহরাঞ্চল কলকাতা ও হাওড়ায়ও তৃণমূলের ঐতিহ্যগত প্রভাব কমে এসেছে বলে প্রবণতা বলছে। এই এলাকাগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠলেও বিজেপি সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে মালদহসহ কিছু এলাকায় তৃণমূল সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভবানীপুর আসনে, যেখানে তৃণমূল নেত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বলে গণনার অগ্রগতিতে দেখা গেছে। তবে সামগ্রিক রাজ্য পরিস্থিতিতে এই ব্যক্তিগত সাফল্য দলীয় অবস্থানকে বড় পরিবর্তন করতে পারেনি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

নির্বাচনের এই প্রবণতা ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উদ্বেগ দুটোই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোট গণনা কেন্দ্রগুলোর বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বেকারত্ব, দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রচারে সাংস্কৃতিক পরিচয়, স্থানীয় স্বার্থ এবং রাজ্যভিত্তিক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরেছিল। তবে ভোটের এই প্রবণতা অনুযায়ী তা পর্যাপ্ত সমর্থন অর্জন করতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হলো পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন। বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতার নাম সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রাজ্য নেতৃত্বের কয়েকজন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নামও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল মেনে না নিয়ে অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত গণনার জন্য। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও অনেক আসনের গণনা বাকি রয়েছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে এই প্রবণতা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে রাজ্যটি—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর