সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করা কৃত্রিম প্রজনন কর্মী অনিমেষ পরমান্যকে উদ্ধার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ। একই ঘটনায় জড়িত তিন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে শ্যামনগর থানা পুলিশের একটি টিম সুন্দরবন বাজার এলাকা থেকে অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে জলদস্যুরা অনিমেষকে সুন্দরবনের মরাগাঙ নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
অনিমেষ পরমান্য শ্যামনগর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী। তিনি উপজেলার বৈশখালী গ্রামের মৃত নিতাই পরমান্যের ছেলে।
ভুক্তভোগীর বরাতে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরের দিকে গরুর চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে ঘুরতে যাওয়ার অজুহাতে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তাকে জিম্মি করা হয়।
অনিমেষ পরমান্য জানান, তার প্রতিবেশী আশরাফ হোসেন প্রথমে গরুর চিকিৎসার কথা বলে তাকে সুন্দরবন বাজারে নিয়ে যান। পরে গরু না দেখিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জলদস্যুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, দুই দিন ধরে তাকে একটি নৌকায় আটকে রাখা হয়। এ সময় হাত বেঁধে রাখা হয় এবং শুধু খাবারের সময় কিছু সময়ের জন্য হাত খোলা হতো। তাকে জিম্মি করে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ দিতে দেরি হওয়া এবং পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের সহায়তা চাওয়ার পর তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন অনিমেষ পরমান্য। তিনি জানান, গরাণের লাঠি দিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস বলেন, অনিমেষ অপহরণের ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন জরুরি প্রয়োজনেও অনেক কর্মী রাতে সুন্দরবন বা সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে যেতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছেন। তিনি উদ্ধার অভিযানে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, শনিবার রাতে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযান শুরু করা হয়। রোববার রাতে একাধিক টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের চাপের মুখে সোমবার সকালে অপহৃতকে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার করে আনা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন মাহমুদুল হাসান ডন, আব্দুল জব্বার এবং শাহিনুর রহমান। আটককৃতদের মধ্যে প্রথম দুজন ২০১৭ সালে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যু ডন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার পেছনে থাকা পুরো চক্র শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু ও অপহরণ চক্র দমনে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।