ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সাতক্ষীরার আমন বীজে দেশজুড়ে সাড়া, ৯৫২ টন যাচ্ছে ২২ জেলায়


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬ সময় : ৮:২৪ পিএম

সাতক্ষীরার আমন বীজের কদর দেশজুড়ে বাড়ছে। গুণগত মান ও উজ্জ্বল রঙের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আমন ধানের বীজের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সাতক্ষীরা অফিসের তত্ত্বাবধানে ৯৫২ মেট্রিক টন আমন বীজধান উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উৎপাদিত এই বীজ দেশের ২২টি অঞ্চলে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। এই বীজ উচ্চ ফলনশীল জাতের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং কৃষকরা উন্নত মানের ফসল উৎপাদনে উপকৃত হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বীজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে বীজ স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অবদান রাখছে।

সাতক্ষীরা বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে সদর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া অঞ্চলের চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে এই বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলার ৭টি ব্লকে প্রায় ৩০০ জন প্রশিক্ষিত চাষি কাজ করছেন। তাদের মাধ্যমে ভিত্তি মানের উৎকৃষ্ট বীজ সরবরাহ থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও ফসল কাটা পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হয়। এরপর মান যাচাই শেষে বীজ সংগ্রহ করা হয়। বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা সর্বোচ্চ ফলন পেতে পারেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়, যাতে তারা সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারেন এবং বীজের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। এই কার্যক্রমের ফলে উৎপাদিত বীজ জাতীয় মানদণ্ড বজায় রাখতে সক্ষম হয়।


সাতক্ষীরা বিএডিসির উপ-পরিচালক রমিজুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরার বীজের গুণগত মান এবং রঙের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা অনেক বেশি। তিনি বলেন, চেইন অব কমান্ড মেনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বীজ উৎপাদন ও সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের ফলে কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে এবং বীজ উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রটি বর্তমানে জেলার মধ্যে একটি সৌন্দর্যমণ্ডিত দপ্তর হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিকেলে বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। এ কারণে কেন্দ্রের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভিন্ন সংস্কার ও মেরামত কাজ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কক্ষ সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রের সকল স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি সচল রেখে বীজ সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কেন্দ্রের পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে কর্মপরিবেশও আরও উন্নত হয়েছে, যা কর্মীদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ কারণে কেন্দ্রটি স্থানীয় জনগণের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি সেবা কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে।

উল্লেখ্য, বিএডিসির এই দপ্তরটি মূলত বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের কাজে নিয়োজিত। এখানে সাধারণ খুচরা বীজ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। শুধুমাত্র চুক্তিবদ্ধ কৃষকরাই বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে থাকেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মানসম্মত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া কৃষি খাতে আস্থা বৃদ্ধি করছে। সাতক্ষীরায় আমন বীজ উৎপাদনের এই সাফল্য জেলার কৃষি খাতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে মানসম্মত বীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বীজ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একইসঙ্গে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে। বিএডিসির ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও উন্নত বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার পথ সুগম করবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের কৃষি উন্নয়নকে আরও টেকসই ও আধুনিক করতে সহায়তা করবে এবং খাদ্য উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই বীজ কৃষকের আস্থাও বৃদ্ধি করছে। ফলে কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রমাগত বৃদ্ধি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর