ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক কিশোরীর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বসিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদবরদের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অর্থদণ্ড দেওয়া হলেও গোপনে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সালিশে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত দেলোয়ারকে (৫৫) প্রকাশ্যে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সালিশের আড়ালে তার কাছ থেকে গোপনে আরও এক লাখ টাকা আদায় করেন মাদবররা। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবারকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং পরে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী (১২) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা পেশায় ভ্যানচালক। মা অসুস্থ থাকায় তিনি পরিবারে অনুপস্থিত থাকেন। মেয়েটি বাবা ও দাদীর সঙ্গে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা এবং গ্যারেজমিস্ত্রি দেলোয়ারের ঘরে বসবাস করত। স্থানীয়দের কাছে দেলোয়ারকে সে ‘দাদা’ বলে ডাকত।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দেলোয়ার প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন এবং বিষয়টি না মানলে তার বাবার ভ্যান নিয়ে নেওয়ার হুমকি দিতেন। গত ২৫ এপ্রিল রাতে প্রায় ১০টার দিকে ঘরে একা থাকা অবস্থায় দেলোয়ার তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হলে রোববার রাত ৯টার দিকে সালিশ বসে। এতে হামিরদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বাবর আলী মাতুব্বর, মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি কাশেম আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সালিশে দেলোয়ারকে দায়ী করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে তাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, প্রকাশ্যে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেখানো হলেও গোপনে দেলোয়ারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাদী বলেন, মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন এবং কীভাবে তার বিয়ে হবে তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অভিযুক্ত দেলোয়ার সোমবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে জানতে বাবর আলী মাতুব্বরের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি কাশেম আলী বলেন, “আমরা স্থানীয়ভাবে বসে সালিশ করেছি এবং দেলোয়ারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। তখন মেয়েটির দাদি, বাবা, চাচাসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। এখন তারা সালিশ মানছে না, যা ঠিক নয়।”
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।