ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ওপেক প্লাসের বড় সিদ্ধান্ত, বাড়ছে তেল উত্তোলন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৫ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওপেক প্লাস জোটের সাত সদস্যরাষ্ট্র। সৌদি আরব, রাশিয়া, কুয়েত, আলজেরিয়া, ইরাক, কাজাখস্তান ও ওমান—এই দেশগুলো আগামী জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন অতিরিক্ত মোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল সোমবার ওপেক প্লাস জোটের সদস্যদেশগুলো অনলাইনে একটি বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই উৎপাদন বাড়ানোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এক সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতও ওপেক প্লাস জোটের সদস্য ছিল। তবে গত ২৮ এপ্রিল দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জোট থেকে বেরিয়ে যায়। এর ফলে জোটের কাঠামো ও উৎপাদন পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ওপেক প্লাসের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তেলের দৈনিক উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আগামী জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হবে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সেই পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে নতুনভাবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেলে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, শুধুমাত্র উৎপাদন বাড়ালেই বাজারের বর্তমান অস্থিরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা দেয়। সেই সময় উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক প্লাস জোট। তবে পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় তেলের চাহিদা আবারও বৃদ্ধি পায়।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ওপেক প্লাসের এই উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে বাজার স্থিতিশীল করার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও যদি সরবরাহ ব্যবস্থা ও পরিবহন নিরাপত্তা স্বাভাবিক না হয়, তাহলে তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়া কঠিন হবে।

ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, বর্তমানে তেলের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, ঘাটতি নয়। তাই উৎপাদন বাড়ালেও যদি পরিবহন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে বাজার স্থিতিশীল করা কঠিন হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর