যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে ইরান-এ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে। খাদ্য ও ওষুধের পাশাপাশি গাড়ি, ইলেকট্রনিকস এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের মূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা।
বিশেষ করে বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স (২৫৬ জিবি)। যুক্তরাষ্ট্রে এই মডেলের দাম প্রায় ১,২০০ ডলার হলেও ইরানের কিছু দোকানে এটি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি রিয়ালে, যা প্রায় ২,৭৫০ ডলারের সমান।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মুদ্রা রিয়াল-এর ধারাবাহিক দরপতনই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বর্তমানে ১ ডলার সমান প্রায় ১৮.৪ লাখ রিয়াল পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে বাজার বিশ্লেষণে জানা গেছে।
এদিকে অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং ইস্পাত কারখানাগুলো পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই বা উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে বেকারত্বের হারও বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি ইন্টারনেট শাটডাউন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
অনেক পরিবারই এখন মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থান খরচও বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, যদি দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে, তবে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি একটি গভীর অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বিলাসবহুল পণ্যের দাম যেমন আকাশচুম্বী, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনও হয়ে উঠছে ক্রমশ অনিশ্চিত।