খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবার গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আহত যুবকের নাম রাজু হাওলাদার (৩৮)। তিনি লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লবণচরা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার খুলনা নগরের লবণচরা থানার কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় রাজু হাওলাদার পেটে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে কীভাবে এবং কখন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করা হয়।
অ্যাম্বুলেন্সটি রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, “লবণচরা থানার একটি পার্টি চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় যাওয়ার পথে কুদির বটতলা এলাকায় কারা যেন অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে শুনেছি। পরে তারা আমাদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে বাড়তি নিরাপত্তা চায়। আমরা পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে তাদের থানা এলাকা পার করে দিই।”
তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। গুলি অ্যাম্বুলেন্সে লেগেছিল কি না, তা তারা নিশ্চিতভাবে যাচাই করেননি। লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, রাজু হাওলাদারের ওপর গুলির ঘটনা কখন ও কোথায় ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে পাওয়া যায় এবং তাঁর পেটে গুলির চিহ্ন ছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, রাজুর বিরুদ্ধে থানায় চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সে গুলির ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় খুলনা অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি ঘিরে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।