ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনা জোরদার হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে চলমান সামরিক অভিযান “প্রজেক্ট ফ্রিডম” সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তের পেছনে কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং বিভিন্ন দেশের অনুরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। খবর সিবিসি নিউজের।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (০৬ মে) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং এই মুহূর্তে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আলোচনার পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। এসব অনুরোধ এবং কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত “প্রজেক্ট ফ্রিডম” স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ মূলত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে দেখা হবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত করা ও স্বাক্ষর করা যায় কি না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধান সম্ভব হবে যা উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে নিরাপদে বের করে আনতে গত সোমবার সকাল থেকে “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি ইরান। দেশটি এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল বলে আখ্যা দেয় এবং এ ধরনের সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়। এর ফলে অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মূলত উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা। সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার এই উদ্যোগ সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কূটনৈতিক আলোচনা কতদূর এগোয় এবং চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও গভীরভাবে নজর রাখছে। কারণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।