ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আন্দিশেহ শহরের আরগাভান শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বহু মানুষ আটকা পড়েন এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদপত্র মিজান জানিয়েছে, ভবনটির বাইরের অংশে ব্যবহৃত দাহ্য নির্মাণসামগ্রীর কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং দাহ্য উপকরণের ব্যবহার এই দুর্ঘটনাকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এবং অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো ভবনটি গ্রাস করছে। ঘন ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অনেকেই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইরানি রেডিও ব্রডকাস্টার আইআরআইবি জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভবনটির প্রপার্টি ডেভেলপার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারি সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবনের নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, শপিং মলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না এবং জরুরি নির্গমন পথও যথাযথভাবে প্রস্তুত ছিল না। এসব কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ভবন নির্মাণে অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাহ্য উপকরণের ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এ ধরনের স্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি।
বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ইরানে ভবন নিরাপত্তা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এখন এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।