ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত, বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ৫:৪৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত থামিয়ে একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে উভয় পক্ষ। সংশ্লিষ্ট শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানায়, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা বলেছে, খুব দ্রুতই এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে পারে এবং একটি সমঝোতা ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্দেশ্যে যে সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ চলছিল, তা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরপরই হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।

শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানি সূত্রটি আরও জানায়, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি এতটাই হয়েছে যে, খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে। সূত্রটির ভাষায়, “আমরা খুব দ্রুতই এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানব। আমরা সমঝোতার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”

অন্যদিকে, চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানতে চেয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্ভাব্য এই সমঝোতা চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করতে পারে এবং জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে পারে।

এছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে একমত হতে পারে বলে আলোচনা সূত্রে জানা গেছে। এই প্রণালীটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ, যেখানে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে বর্তমান কূটনৈতিক উদ্যোগ সেই উত্তেজনা কমিয়ে আনার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সমঝোতা হলে এটি শুধু দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণা হয়নি, তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে উভয় পক্ষের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক কাছাকাছি এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন এই আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার একটি বড় মোড় পরিবর্তন হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর