সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দুধে ভেজাল মেশানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভেজালবিরোধী অভিযানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় রতন মাঝি নামের ওই দুধ ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এ সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রতন মাঝি ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের বাসুদেব মাঝির ছেলে। তিনি স্থানীয় ব্রহ্মরাজপুর বাজারে “মা সুইটস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাভিল হোসেন তামিম। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য অফিসার দীপংকর দত্ত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীর এবং বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল।
অভিযান চলাকালে কারখানায় তল্লাশি করে প্রায় ১২০ লিটার ভেজাল দুধ, ১৪ লিটার পাম তেল এবং প্রায় ২ কেজি খাবার সোডা জব্দ করা হয়। এসব উপকরণ ব্যবহার করে দুধে ভেজাল মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাভিল হোসেন তামিম বলেন, “রতন মাঝি দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করে তাতে পাম তেলসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করার চেষ্টা করছিলেন। এ ধরনের কাজ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।” তিনি আরও জানান, এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুধ, মিষ্টি ও খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা রোধে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভেজাল খাদ্যের অভিযোগ ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য পেতে পারে এবং ভেজাল ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে।
তারা আরও বলেন, বাজারে বিক্রিত খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সচেতন হতে হবে। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্যে ভেজাল রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর শাস্তির মাধ্যমে একটি নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
আকাশজমিন /
আরআর