ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দ্বীন ইসলাম (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আখাউড়া থানা পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সদর মডেল থানার খালপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে আখাউড়া উপজেলার এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ ওঠে তার স্বামী দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আখাউড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে নরসিংদী সদর মডেল থানার খালপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি দ্বীন ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দ্বীন ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার রামধননগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। সর্বশেষ যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তার ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের সময় তাকে মারধরের পাশাপাশি চুল কেটে দেওয়া হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং আইনের আশ্রয় নেন। মামলার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও জানান, নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে, নারী অধিকারকর্মীরা এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকের মতো অপরাধ বন্ধে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।
আকাশজমিন / আরআর