ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

পূর্ব মেদিনীপুর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান


শুভেন্দু অধিকারী

  • আপলোড সময় : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬ সময় : ৯:৪১ এএম

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের এই নেতা দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক পথচলার পর এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে প্রথম বড় সাফল্য অর্জন করেন তিনি। পরে তিনি ওই পৌরসভার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৬ সালে কাঁথি দক্ষিণ আসন থেকে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে তমলুক আসন থেকে ভারতের সংসদে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সে সময় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে ১৯৯৮ সালে, যখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেন। দলটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তার ভূমিকা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই সময় জমি অধিগ্রহণ ইস্যু ঘিরে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ দেখা দেয়, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী সামনের সারিতে ছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি নন্দীগ্রাম থেকে বিধানসভায় ফিরে আসেন এবং রাজ্য সরকারের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ও তার দায়িত্বে আসে।

তবে ২০২০ সালের পর তৃণমূলের সঙ্গে তার রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে তিনি দল ত্যাগ করেন এবং যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টি-এ।

এরপর তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বড় রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও ভবানীপুর আসনেও জয় দাবি করেন তার সমর্থকেরা।

তবে তার রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কও কম নয়। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ, অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং বিভিন্ন তদন্ত তাকে ঘিরে আলোচনায় রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান যেমন দ্রুত, তেমনি তার চারপাশে বিতর্কও সমানভাবে বিস্তৃত। তৃণমূল থেকে বিজেপি—এই রাজনৈতিক যাত্রা তাকে রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত করেছে। এখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার ভূমিকা কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর