নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে প্রথম বড় সাফল্য অর্জন করেন তিনি। পরে তিনি ওই পৌরসভার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৬ সালে কাঁথি দক্ষিণ আসন থেকে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে তমলুক আসন থেকে ভারতের সংসদে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সে সময় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে ১৯৯৮ সালে, যখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেন। দলটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তার ভূমিকা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই সময় জমি অধিগ্রহণ ইস্যু ঘিরে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ দেখা দেয়, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী সামনের সারিতে ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি নন্দীগ্রাম থেকে বিধানসভায় ফিরে আসেন এবং রাজ্য সরকারের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ও তার দায়িত্বে আসে।
তবে ২০২০ সালের পর তৃণমূলের সঙ্গে তার রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে তিনি দল ত্যাগ করেন এবং যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টি-এ।
এরপর তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বড় রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও ভবানীপুর আসনেও জয় দাবি করেন তার সমর্থকেরা।
তবে তার রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কও কম নয়। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ, অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং বিভিন্ন তদন্ত তাকে ঘিরে আলোচনায় রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান যেমন দ্রুত, তেমনি তার চারপাশে বিতর্কও সমানভাবে বিস্তৃত। তৃণমূল থেকে বিজেপি—এই রাজনৈতিক যাত্রা তাকে রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত করেছে। এখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার ভূমিকা কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।