লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র— আধুনিক ফুটবলের দুই জনপ্রিয় তারকা। মাঠে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তাদের বন্ধুত্ব বহুবার আলোচনায় এসেছে। এবার নেইমারের প্রশংসা করে তাকে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দেখতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি।
পডকাস্ট অনুষ্ঠান লো দেল পোলো শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “বিশ্বকাপে আমরা সেরা খেলোয়াড়দের দেখতে চাই। নেইমার অবশ্যই তাদের একজন। তার বর্তমান ফর্ম যেমনই হোক, বিশ্বকাপে তাকে দেখতে পাওয়া ফুটবল এবং ব্রাজিল— দুই পক্ষের জন্যই দারুণ হবে।”
মেসি আরও বলেন, “আমি নিরপেক্ষ হতে পারি না, কারণ নেইমার আমার খুব ভালো বন্ধু। তাকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখতে চাই। সে মানুষ হিসেবেও অসাধারণ এবং ভালো কিছুই প্রাপ্য তার।”
দুজনের বন্ধুত্বের শুরু বার্সেলোনা-তে। এরপর পিএসজি-তেও একসঙ্গে খেলেছেন তারা। বার্সেলোনায় চার মৌসুম এবং পিএসজিতে দুই মৌসুম কাটানোর সময় তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ২০২৩ সালে দুজনই পিএসজি ছাড়েন। পরে মেসি যোগ দেন ইন্টার মায়ামি-তে এবং নেইমার যান সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল-এ।
তবে সৌদি আরবে নেইমারের সময়টা ভালো কাটেনি। ইনজুরিতে জর্জরিত হয়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। বিশেষ করে এসিএল ইনজুরির কারণে জাতীয় দল থেকেও ছিটকে যান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে।
মেসি সাক্ষাৎকারে নেইমারের ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “নেইমারের অসাধারণ ক্যারিশমা আছে। সে সহজ-সরল, প্রাণবন্ত এবং খুব স্বাভাবিক একজন মানুষ। অন্যরা কী ভাবল, তা নিয়ে সে খুব একটা মাথা ঘামায় না। সে নিজের জীবন উপভোগ করতে জানে।”
বর্তমানে মেসির বয়স ৩৮ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে নেইমারও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে মরিয়া হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্প্রতি জানিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে পারলে নেইমারের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিত কিছু বলেননি তিনি।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৯টি গোল করেছেন। তাই তাকে আবার বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখতে চান ফুটবলপ্রেমীরাও।