ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার নতুন অধ্যায়ে এবার আলোচনায় এসেছে ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলি। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ইরানের তেল বাণিজ্যকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করছেন—এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আল-বাহাদলি এবং আরও কয়েকজন ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তা করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী ইরাকের বৈধ সম্পদ ব্যবহার করে তেল পাচারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করছে। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তা সহ্য করা হবে না।
এই নিষেধাজ্ঞা এমন সময় এসেছে, যখন পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, আল-বাহাদলি দীর্ঘদিন ইরাকের তেল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি তেল পাচারের অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ করতেন। পাশাপাশি ইরান ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রয়েছেন মুস্তফা হাশিম লাজিম আল-বাহাদলি, আহমেদ খুদাইর মাকসুস ও মোহাম্মদ ইসা কাদিম আল-শুয়াইলি। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা ও অর্থনৈতিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানপন্থী মিলিশিয়া সংগঠনগুলো—যেমন আসাইব আহল আল-হক এবং কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদা—ইরাকের তেল খাতে প্রভাব বিস্তার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের তেল চোরাচালানের মাধ্যমে ইরান বছরে বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় করছে, যা বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, ইরানি তেলকে কখনো ইরাকি তেল হিসেবে লেবেল করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা হয়, যাতে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞাও কার্যত ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
ইরাক ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ হলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাগদাদের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও গভীর।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। পরবর্তী প্রশাসনগুলোও সেই নীতি বহাল রাখে, যা এখন আরও কঠোর হয়েছে।
ইরানের অর্থনীতির বড় অংশই তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।
আল–জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরাকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রভাব ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।