রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শুকনোছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম হেগেরা চাকমা (৫০)। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেতকাবা এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শুকনোছড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি ইউপিডিএফ (প্রসীত) অংশের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল পৌনে ৬টার দিকে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন হেগেরা চাকমা। কিছু দূর যাওয়ার পরই আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে দুর্গম এলাকার কারণে সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দয়াধন চাকমা জানান, শুকনোছড়া এলাকায় ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, “ঘটনাস্থলটি দীঘিনালা ও সাজেক ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা। সেখানে ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)—দুটি পক্ষই সক্রিয় রয়েছে। এই এলাকায় আগেও একাধিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।”
অন্যদিকে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, নিহত হেগেরা চাকমা তাদের সংগঠনের কর্মী ছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় “নব্য মুখোশধারী সশস্ত্র গোষ্ঠী” জড়িত বলে অভিযোগ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।