ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে শোভনীয় পরাজয়ের পর জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বাম, অতিবামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি নতুন জোট বা মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার কলকাতার ব্রিগেড গ্রাউন্ডে বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ গ্রহণ করেন। একই দিনে বিজেপির এই রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের পরপরই কালীঘাটে নিজের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি বিজেপিবিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনের আহ্বান জানান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চারদিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। আমি সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন, এনজিও সবাইকে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একটা মঞ্চ গড়তে চাই।” তিনি আরও বলেন, “বাম, অতিবাম, যেকোনো জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন—আসুন, আমরা জোট বাঁধি। কেউ চাইলে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
বিজেপিকে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে আমি এই আবেদনটা সবার কাছে রাখলাম। এখন এটা ভাবার সময় নয় যে আমি কে, ও কে। শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু। রাজনৈতিকভাবে শত্রুকে মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে হবে সবাইকে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলগুলোকে এক মঞ্চে আনার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যেখানে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান এবং তৃণমূলের আসন কমে যাওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ২টি, সিপিএম ১টি, আইএসএফ ১টি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) পেয়েছে ২টি আসন।
ভোটের হিসাবে বিজেপি পেয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের হার ৪০.৮০ শতাংশ। কংগ্রেস পেয়েছে ২.৯৭ শতাংশ, সিপিএম ৪.৪৫ শতাংশ, নোটা পেয়েছে ০.৭৯ শতাংশ এবং অন্যান্য দলগুলো পেয়েছে ৪.২৬ শতাংশ ভোট।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জাতীয় ঐক্যের ডাক ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বাম ও অতিবাম দলগুলো এই আহ্বানে কী সাড়া দেয়, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে।